শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

স্বামী স্ত্রী বিচ্ছেদ ও মায়ের ভালোবাসা - আমার মা নাদিয়া রহমান রাতে ঔষধ শরীরে মালিশ করে দিলেন

আমার নাম জনি রহমান। আমার বয়স ২৬ । আমি পেশায় একজন ভ্যান চালক আর বাড়ি মালদায়। বছর খানেক আগে আমার বাবা তাপপ্রবাহে মারা জান। উনিও আমার মত ভ্যান চালাতেন। এই অঞ্চলে গরম এর দিনে তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রির পারদ ছুঁয়ে যায়। তাই এই অঞ্চলে এই তাপপ্রবাহে প্রতি বছর অনেক মানুষ মারা জান।


যাই হোক এবার নিজের পরিচয় আসি। আজ থেকে প্রায় ৭ বছর আগে আমার বিয়ে হয়েছিল এক সুন্দরী মেয়ের সাথে। তাঁর তখন বয়স ছিল ১৮ বছর, আর আমার ১৯ । বছর দুই ভালো ভাবে সংসার করে আমাদের একটি মেয়ে হয়। তার নাম দিয়েছিলাম ভালোবেসে জান্নাত রহমান । আমাদের পরিবারটা চির দিনই খুব গরিব । তাঁর ওপর হঠাৎ বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমাদের সংসারে অভাব অনটন আরো বেশি করে নেমে আসে ।  যথারীতি সংসার এ আমার বৌ এর নানান ছাতি বিদ্ধ করা কথা আমাকে শুনতে হতো । শেষ মেস এই কয়েকদিন আগে আমার বৌ আমায় ছেড়ে আমার আমাদের মেয়ে কে নিয়ে তার বাপের বাড়িতে চলে যায়। আর বলে যায় বেঁচে থাকতে কখনো আমার মুখ দেখবে না। খুব কষ্ট আর যন্ত্রনায় জীবন অতিবাহিত হচ্ছে আমার মেয়েটাকে ছাড়া।


আমার অসুস্থতা ও মায়ের মমতা


এখন বাড়ি তে বলতে আমরা দুইটা প্রাণী আমার মা নাদিয়া রহমান আর আমি। সংসার বিচ্ছেদ এর পর আমার মানসিক ভারসাম্য ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে। সারাদিন গরম আবহাওয়া তে ইট ভাটায় ভ্যান চালিয়ে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি দূর করতে কম দামি চোলাই পান করি । আমার মা আমার অবস্থার অবনতি দেখে আমার বৌকে বহু বার বোঝাতে গেছিলো সংসারে ফিরে আসার কথা। উপরন্তু তারা আমার মা কে অপমান করে বার বার। মা আমার অবস্থা দেখে শুধু কাঁদে আর তার কপাল চাপড়ে মরে।


আমার মায়ের বয়স ৪৮। আমার ফ্যামিলিতে আমরা সবাই লম্বা। আমার উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট। বাবাও খুব লম্বা ছিলেন। আমার মায়ের উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি। একজন মহিলা হিসেবে তিনি বেশ লম্বা। মা কে আমার দেখতে কালো চুল অর্ধেক কাঁচাপাকা। 


একটা ডিভোর্সি মেয়ের কষ্ট

আমি শুধু লম্বা, কিন্তু আমার গায়ে চর্বি নেই। উপরন্তু আমি রোগা, কালো, লম্বা ও মাথার মাঝখানে এই বয়েসেই আমার চুলগুলো পরে গেছে। মা খুব স্নেহ করেন আমাকে, কম বয়েস থেকেই আমি কাজে কর্মের মধ্যে থেকে এসেছি। রোদ্দুরে পুরে খুব কষ্ট করে রোজগারের টাকায় সংসার চলে আমাদের। তাও ভালো ছিলাম আমার মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্টকে সহজ বলে মনে হতো। এখন আমার সাথে তাকে দেখা করতে দেওয়া হয় না । তাই সারাদিন কাজে কর্মের পর চোলাই খেয়ে আমি আত্মভোলা হয়ে থাকি। কিন্তু আমার মা আমার এই কষ্ট গুলো দেখতে পারে না।


মায়ের মত আপন কেউ নাই



সারাদিন কাজ করি কিন্তু স্নান খাওয়া করিনা তেমন। কিছুদিনের মধ্যে আমার শরীরের অবস্থা চোখে পড়ার মতো হয়ে গেল। গাল আর চোখ আরো ভেতরে ঢুকে গেছে। রুগ্ন শরীরটা আরো জীর্ণকায় হয়ে দাঁড়ালো। এই অবস্থা আমার মা আর না দেখতে পেরে পাড়ার এক ডাক্তার কে ডেকে আমার চিকিৎসা করালো। ডাক্তার সাকিব একটা মলম লিখে দিলেন। আর বললেন গরম বোরোলিনে পুড়িয়ে শরীরের ঘা গুলো তে লাগাতে। 

সুন্দরী মামীকে রাতে একা পেয়ে

আমি নিজে এটা থেকে লাগাবো না কিছুই। কারন আমার তো বেঁচে থাকার কোনো উদ্দেশ্য নেই। মা জানে সবই যে আমি এটা লাগাবো না। আমার যা আছে থাকবে। আমি মানসিক দিক দিয়ে আমি ভালো নেই। কিন্তু মায়ের মনটা সদাই সন্তান এর ভালো চাইবে। তাই তখনকার মতো ডাক্তার কে বিদায় জানিয়ে আমার খাওয়ার ইচ্ছা না থাকলেও জোর করে দু গাল ভাত খাইয়ে দিলো মা।


সেদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মা বোরোলিন দিয়ে আমার ঘায়ে মালিশ করে দিতে লাগলো। আমি শুয়ে শুয়ে চোখ বন্ধ করে পরম সুখ অনুভব করতে লাগলাম। আমার মায়ের হাতের স্পর্শে কি জাদু আছে যে আমার বৌ কোনোদিন এভাবে আমায় মালিশ করে দেয়নি। মায়ের মালিশ এ মমতা আছে সেটা বুঝতে পারলাম। এত শান্তি আমি আগে কখনো পাইনি। মা নরম হাতে মালিশ করায় শরীরের চুলকানি টা কম লাগছে। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর আমি সুস্থ হয়ে উঠি। মায়ের মত আপন কেউ নাই।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন